দেশীয় ফল তেঁতুল


লেখা ও ছবি ঃ মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

বাংলাদেশে সুপ্রাচীন কাল থেকে তেঁতুল গাছ জন্মে। তাছাড়া তেঁতুল জনপ্রিয় ভেষজ ফল। এর ইংরেজী নাম ঃ ঞধসধৎরহফ, উদ্ভিদ তাত্বিক নাম ঃ ঞধসধৎরহফঁং রহফরপধ । তেঁতুল সুবৃহৎ ও সুদৃশ্য চীর সবুজ বৃক্ষ। প্রচুর শাখা-প্রশাখা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘন পাতা বিশিষ্ট গাছ। গাছ বছরের পর বছর বিভিন্ন প্রতিকুলতা সহ্য করে বেঁচে থাকতে পারে। শত বছরের আয়ু তেঁতুলের জন্য আশ্চর্য কিছু নয়। গাছের বৃদ্ধি ধীর। গাছ ও কান্ড খুবই শক্ত তাই সহজে ঝড় বাতাসে ভেঙ্গে পড়েনা। বাংলাদেশের এখানে ওখানে অনেক পুরনো তেঁতুল গাছ চোখে পড়ে । গাছ গড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। গাছের কান্ডের বেড় ৭ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। যৌগিক ছোট ছোট পাতা চিরুনির মতো সাজানো থাকে। ফুল ফোটার মৌসুম জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাস। ফুলের রং হাল্কা বাদামি। তাতে হলুদ লালচে দাগ থাকে। ফুলের পাপড়ি সংখ্যা ০৫ টি। পরাগায়নে ঘটে পতঙ্গ দ্বারা। ফল লম্বায় ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হয়। ফল কাস্তের মত বাঁকা ও সোজাও দেখতে পাওয়া যায়। এর ফল ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পাকে। ফল গাছের ডালে থোকায় থোকায় ধরে। পাকা ফলের ঘ্রাণ টক মিষ্টি। পাকা তেঁতুলের খোসা মচমচে এবং ভিতরে পুরু শাঁস থাকে। ফলের রং শাঁস কাঁচা থাকলে সবুজাব ও পাকা ফল বাদামি রঙের হয়। প্রতি ফলে ০৫ থেকে ১২ টি বীজ থাকে। বীজের রং খয়েরি। তেঁতুল বীজ হতে তৈরি চারা রোপণ চলে। তাছাড়া কেফট গ্রাফটিং এর মাধ্যমে কলম চারা তৈরি করা যায়। গ্রাফটিং করা চারার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে কাংখিত মান সম্পন্ন জাত তৈরি ও ফলন পাওয়া যায়। প্রায় সব ধরণের মাটিতে তেঁতুল চারা লাগানো যায়। গ্রাফটিং করা চারা টব বা ড্রামে লাগানো যায়। বাংলাদেশের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, বগুড়া ও গাজীপুর জেলায় তেঁতুল ভাল জন্মে। তেঁতুলের কোন অনুমোদিত জাত নেই। তবে ইদানিং মিষ্টি তেঁতুলের জাত নিয়ে গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তেঁতুল কাঁচা ও পাকা দু’ভাবেই খাওয়া যায়। স্বাদে টক। তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকায় স্বাদ টক হয়। বীজ বিভিন্ন নকশী শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পাকা ফল শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। আচার চাটনি ও অন্যান্য ভেষজ কাজে তেঁতুল ব্যবহৃত হয়। তেঁতুল প্রচুর পরিমাণ শর্করা, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, ভিটামিন- সি বিদ্যমান রয়েছে। তেঁতুল পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালা পোড়ায় তেঁতুলের শরবত বেশ উপকারী। তেঁতুলের কচি পাতা সিদ্ধ করে ঠান্ডা করে খেলে সর্দি ভালো হয়,হজমে সহায়তা করে, মাথা ব্যাথা দূর, ধুতরা ও কচুর বিষাক্ততা এবং এলকোহলের বিষাক্ততা নিরাময় করে। গাছের ছাল চুর্ণ ব্যবহারে দাঁত ব্যাথা, চোখ জ্বালা পোড়া নিরাময় ও উচ্চ রক্ত চাপ কমায়।

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries